ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩ হাজার, নিখোঁজ বহু মানুষ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি সংঘটিত শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম ধীরে ধীরে সমাপ্ত করছে। তবে এখনও অনেক পরিবার স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের আশায় ধ্বংসস্তূপে অপেক্ষা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যদিও চলতি সপ্তাহেও ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কয়েকটি অনুসন্ধানী কুকুরকেও এ সময় বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশটি গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ধরে রেখেছে, আবার অসংখ্য মানুষ এক মুহূর্তে সবকিছু হারিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারীরা জানান, সর্বশেষ অনুসন্ধানেও নতুন কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় তারা কার্যক্রম শেষ করছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়া থেকে যাওয়া দলগুলোও।

এদিকে অনেক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, দুর্যোগের পর সরকারি তৎপরতা যথেষ্ট দ্রুত ছিল না। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মীকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

এদিকে লা গুয়াইরায় ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া জানান, মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে এবং এটি অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, সর্বশেষ অভিযানে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। অন্যদিকে আহতদের চাপে হাসপাতালগুলোতে সংকট তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।