রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী বন রেঞ্জের আওতাধীন ফ্রিংখং বিট অফিসসংলগ্ন চিৎমরম মুসলিমপাড়া এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে বাড়িঘর, ফসল ও বিভিন্ন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই বন্য হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে কলাবাগান, বিভিন্ন ধরনের ফসল, ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ নানা সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ফলে জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বন্য হাতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী ও জাতীয় সম্পদ। তাই হাতির কোনো ক্ষতি না করেই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক করিডর দখল করে অনেক স্থানে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে হাতির খাদ্য সংকট তীব্র হওয়ায় তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। এতে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। অতীতে হাতির আক্রমণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, হাতির চলাচলের করিডরের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন এবং বনে হাতির খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব অনেকাংশে কমে আসবে।

