দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামে বর্ষার কাদামাখা কৃষিজমিতে এখনো দেখা মিলছে গ্রামবাংলার চিরচেনা এক দৃশ্যÑ জমি চাষের পেছনে শিশুদের দেশীয় মাছ ধরার উচ্ছ্বাস। গতকাল শনিবার সকালে কাজল গ্রামের বিভিন্ন কৃষিজমিতে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ চলার সময় জমির কাদা উল্টে উঠে আসে কই, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটিসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। আর সেই মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শিশুদের একটি দল।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বর্ষা মৌসুমে এমন দৃশ্য এখনো মাঝে মাঝে দেখা যায়। ট্রাক্টরের চাষের ফলে মাটির নিচে থাকা মাছগুলো ওপরে উঠে এলে শিশুদের মধ্যে শুরু হয় মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। কেউ হাতে, কেউ ছোট জাল বা পাত্র ব্যবহার করে মাছ সংগ্রহ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ ইসলাম বলেন, আগে গরুর লাঙল দিয়ে জমি চাষের সময় এমন দৃশ্য খুবই স্বাভাবিক ছিল। এখন ট্রাক্টর ব্যবহারের পরও কিছু জায়গায় বর্ষায় এই দৃশ্য দেখা যায়, তবে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এটি আগের মতো আর নিয়মিত নয়। মাঠে উপস্থিত শিশুদের মুখে ছিল নির্মল আনন্দ। তাদের কাছে এটি শুধু মাছ ধরা নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং গ্রামীণ জীবনের সহজ আনন্দ উপভোগের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
একদিকে কৃষকের ব্যস্ততা, অন্যদিকে শিশুদের উচ্ছ্বাসÑ দুটি দৃশ্য মিলিয়ে কাজল গ্রামের মাঠে তৈরি হয় গ্রামীণ জীবনের এক অনন্য চিত্র। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে কৃষিকাজ বদলালেও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও শৈশবের আনন্দ এখনো জীবন্ত রয়ে গেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলেছে, দেশীয় মাছ ও প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। দেশীয় মাছ শুধু খাদ্যের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষার এই সময়ে কাজল গ্রামের মাঠে তাই শুধু কৃষিকাজ নয়, বরং ফুটে উঠছে শৈশবের উচ্ছ্বাস, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং বাংলার গ্রামীণ জীবনের এক চিরন্তন সৌন্দর্য।

