× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হোসাইন মামুন, চৌদ্দগ্রাম থেকে

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

হ্যাচারির বর্জ্যে দূষিত পরিবেশ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

হোসাইন মামুন, চৌদ্দগ্রাম থেকে

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া এলাকায় অবস্থিত সিপি বাংলাদেশ পোল্ট্রি হ্যাচারির বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত রক্তমাখা ডিমের খোসা ও অপরিপক্ব মৃত মুরগির বাচ্চাসহ বিভিন্ন বিষাক্ত বর্জ্য গভীর রাতে মহাসড়কের দু’পাশ, কৃষিজমি, খাল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিপি বাংলাদেশ হ্যাচারিতে লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। তবে উৎপাদন শেষে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে রাতের আঁধারে পিকআপ ভ্যানে করে এসব বর্জ্য মহাসড়কের বালুজুড়ি, ফালগুনকরা, নানকরা, আমজাদের বাজার, সুজাতপুর, চিওড়া এবং দক্ষিণ ডিমাতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পচা ডিমের খোসা, মৃত বাচ্চা ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরাও।

দক্ষিণ ডিমাতলী গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, সিপি হ্যাচারির বর্জ্যের কারণে মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্যাচারির কর্মচারীরা প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে লোকচক্ষুর আড়ালে গভীর রাতে এসব বর্জ্য ফেলে যায়। অনেক সময় কৃষিজমি, খালের পানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিংবা চলাচলের পথেও এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। গভীর রাতে কাজটি করায় দায়ীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ ডিমাতলী, সুজাতপুর ও নানকরা এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক, কবির হোসেন, সাদেক মিয়া, সুমন ও সফিউল ইসলাম জানান, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে আত্মীয়-স্বজনরাও এখন গ্রামে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বর্জ্য থেকে ছড়ানো জীবাণুর কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তারা।

সিপি বাংলাদেশ হ্যাচারির ম্যানেজার রুবেল রায় বলেন, বর্জ্য অপসারণের জন্য আমাদের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বর্জ্য সরানো হয়। তারা কোথায় বর্জ্য ফেলে, তা আমাদের জানা নেই।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহ আল-মামুন সাগর বলেন, প্রতিটি হ্যাচারির নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকা বাধ্যতামূলক। পরিবেশ দূষণ হয় এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের পচা বর্জ্য ও দুর্গন্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, ফুসফুসের সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ পরিবেশে থাকলে মানসিক বিরূপ প্রভাবও পড়তে পারে। শিশু ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, কোনো কারখানার বর্জ্য জনবহুল এলাকায় ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!