ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় এক নারীকে জিম্মি করে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে চিহ্নিত সন্ত্রাসী 'শুটার বাপ্পী' ও তার সহযোগীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার শরীফ চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির ম্যানেজার লিমাকে ঘর থেকে ডেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পী ও তার সহযোগীরা। পরে তারা ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে ভবন মালিকের কাছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মাদক সেবন করে।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটিতে প্রবেশ করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী সুটার বাপ্পী গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগে শুটার বাপ্পী ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভবনটির নিচের তিন তলায় বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চতুর্থ তলায় ভবন মালিকের ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং পঞ্চম তলায় একটি রিসোর্ট রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ভবন মালিকের স্ত্রী ও ভুক্তভোগী ম্যানেজার লিমা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা তাকে জিম্মি করে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এদিকে ভবন মালিক শরীফ চৌধুরী বলেন, শুটার বাপ্পীর সঙ্গে অতীতে তার পরিচয় ও সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী মূলত চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শুটার বাপ্পীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

