× UCB Sticker Card
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

করতোয়া নদীর ভাঙনের শঙ্কায় আশ্রয়ণ প্রকল্প, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত পাড় ধসের কারণে সরকারের নির্মিত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের শতাধিক পরিবারের বসতভিটা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন নদী একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে জনবসতি। ভাঙনের শব্দ আর অনিশ্চয়তার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, করতোয়া নদীর ভাঙন এ এলাকায় নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে নদীতীর সংরক্ষণ কিংবা কার্যকর প্রতিরোধমূলক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নতুন করে আতঙ্কে পড়তে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। এবার টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। নদীর পাড় ধসে ধসে এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় ধরনের একটি ধস নামলেই মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং আশপাশের অসংখ্য বসতবাড়ি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাড় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ভেঙে নদীতে পড়ছে। শিশুদের চলাচলও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক পরিবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে নিজেদের ঘরবাড়ি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখছেন অনেকেই, যাতে যেকোনো সময় ভাঙন শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আদরী রাণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের নিজের কোনো জমি নেই। অনেক কষ্টে সরকার এই ঘর দিয়েছে। আগে এখানেও আরও কয়েকটি ঘর ছিল, সেগুলো নদীতে চলে গেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ভাঙন অনেক বেড়েছে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে সব সময় ভয়ে থাকি। কখন ঘর নদীতে চলে যায়, সেই আতঙ্কে ঠিকমতো খেতেও পারি না।

একই প্রকল্পের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, নদীভাঙনের কারণে ঘর খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। নতুন করে ঘর বানানোর মতো টাকা নেই, জমি কেনারও সামর্থ্য নেই। কয়েক দিন আগেই পাশের একটি ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন মনে হচ্ছে আমাদের ঘরটাও যেকোনো সময় নদীতে চলে যাবে।

বিলকিস আক্তার বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। সরকার অনেক কষ্টে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। এখন সেই ঘরটাই হারানোর ভয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। আমাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হোক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, আশপাশের শতাধিক পরিবারও গৃহহীন হয়ে পড়বে। অনেকের ফসলি জমি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন শেষ সম্বল বসতভিটাও হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

তারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

তবে নদীপাড়ের মানুষের প্রশ্ন, প্রশাসনের উদ্যোগ কি নদীভাঙনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে? নাকি করতোয়ার অব্যাহত ভাঙনে আবারও হারিয়ে যাবে শতাধিক পরিবারের শেষ আশ্রয়? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। আর অনিশ্চয়তার সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে করতোয়া নদীর তীরবর্তী অসহায় মানুষগুলো।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!