ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১৫ মিনিটের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড এক উপজেলা

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সদরপুরে মাত্র ১৫ মিনিটের প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আঘাত হানা এ ঝড়ে গাছপালা উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ও যাতায়াত ব্যবস্থাতেও নেমে এসেছে ব্যাপক বিপর্যয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলা পরিষদের ভেতরে থাকা ৪৫ বছরের পুরোনো রেইনট্রি ও মেহগনি গাছের বিশাল ডাল ভেঙে পড়ে অভ্যন্তরীণ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উপজেলার সতেররশি, আটরশি, চরডুবাইলসহ বিভিন্ন গ্রামে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধ্যপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, তার বসতঘর ভেঙে যাওয়ায় চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন গ্রামে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আল আমীন ও পলাশের মতো প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গত ১৫ বছরেও তারা এমন বিধ্বংসী ঝড় দেখেননি। ঝড়ে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও।

অটোচালক গিয়াস জানান, চলন্ত অবস্থায় বড় একটি ডাল পড়ে তার অটোর সামনের অংশ চুরমার হয়ে গেছে।

কৃষি খাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। সতেররশি গ্রামের কৃষক জাফর খান ও ২২ রশির কৃষক সায়েদ জানান, ঝোড়ো বাতাসে তাদের বিঘার পর বিঘা পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আম ও লিচুরও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার ডালপালা কেটে যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সর্বস্ব হারানো সাধারণ মানুষ এই অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আর্থিক সহযোগিতা দাবি করেছেন।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, যেসব কৃষকের ক্ষেতে এখনও পাকা ধান ও ভুট্টা রয়েছে, তাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তবে এই বৃষ্টি পাটচাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।