ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাধ আছে, সাধ্য নেই

মো. হাবিবুল ইসলাম রিয়াদ, সোনাগাজী, ফেনী
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ফলের দোকানগুলোতে তরমুজ প্রচুর পরিমাণে দেখা গেলেও চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারগুলোতে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। ফল ব্যবসায়ীরা তরমুজের দোকান সাজিয়ে বসেছেন। হাঁকডাক বাড়ছে তরমুজ বেচাকেনায়। ফলের দোকানগুলোতে তরমুজ প্রচুর পরিমাণে দেখা গেলেও চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। ক্রেতা যেন বুঝতে না পারে, তাই কেজিতে বিক্রি না করে পিস হিসেবে বিক্রি করলেও দাম পড়ে কেজি দরেই।

শুক্র ও শনিবার সরেজমিন ফেনীর সোনাগাজী বাজার, কেরামতিয়া বাজার, মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা সারি সারি করে তরমুজ সাজিয়ে রেখেছে। ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামের তরমুজ রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে। ক্রেতারা কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন। কেউ আবার তরমুজ দামাদামি করছেন।

দাম চড়া থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এই ফল। বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব অপরিপক্ব তরমুজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন আড়তদাররা। এতে ব্যবসায়ীরা লাভ গুনলেও বাড়ি নিয়ে কাটার পর লালের বদলে তরমুজের ভেতরের রং সাদা দেখে হতাশ হচ্ছে ক্রেতারা। ফলে এসব অপরিপক্ব তরমুজ চড়া দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। প্রশাসন যদি নিয়মিত বাজার মনিটর করে, তাহলে তরমুজসহ বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

আবদুল হামিদ নামের এক ক্রেতা জানান, ইফতারের জন্য একটা তরমুজ কিনতে গেলাম। তরমুজের খুব দাম। আমাদের মতো মানুষ তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। আবু ছুপিয়ান নামের এক ব্যক্তি বলেন, বাজারে গেলাম একটা তরমুজ কিনব বলে। গিয়ে যে দাম শুনেছি! দাম অনুযায়ী তরমুজ আমাদের জন্য না।

আবদুর রহিম নামের এক তরমুজ বিক্রেতা বলেন, আমরা কিছু তরমুজ কিনে আনি আড়তদারের কাছ থেকে। গোড়ায় দাম বেশি। আমাদের কী করা, সামান্য লাভে তরমুজ বিক্রি করি। রমজানের পর হয়তো দাম পড়ে (কমে) যাবে। নবী নামে তরমুজ বিক্রেতা বলেন, তরমুজের দাম বর্তমানে একটু বেশি। আশা করি, কমে যাবে। আমরা কমে দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রিও করতে পারব।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউছুপ মিয়া বলেন, বাজার নিয়মিত মনিটরিং চলছে। এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।