ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং যৌতুক দাবির অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩ ফ্রেবুয়ারি) বিকেলে ওই নারী বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুরনাহার আক্তার প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার চান্দরা হাজীবাড়ী এলাকার রুবেল হাসান জনির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রুবেল হাসান জনি, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পিতার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং নতুন ঘর সাজানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এসব দাবিতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এর আগেও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার পান। এ নিয়ে গ্রাম্যভাবে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

সম্প্রতি গত ২ ফেব্রুয়ারি স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে তাকে গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। পরে কৌশলে ঘরের ভেতরে নিয়ে আটকে রেখে পুনরায় মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।

পরে সন্ধ্যায় বাড়ির লোকজনকে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। যৌতুক না দিলে আরও ভয়াবহ পরিণতি ঘটানোর হুমকি দেয় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় নুরনাহার আক্তার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী নারী জানান, পরকীয়ার বিষয় ধরে ফেলায় বিভিন্ন সময় তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী রুবেল হাসান জনি বলেন, আমার বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে, তাই আমার মাথা ঠিক ছিল না। এ কারণে চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। যৌতুকের বিষয়ে আমি তাকে কিছুই বলিনি।

কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুক্তার হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।