নগরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য রাখতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়ন কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর বাজার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
এ সময় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রশাসক কাশিমপুর বাজারসংলগ্ন নদীর তীর এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশ দূষণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। নদী দূষণ রোধে বাজার কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ময়লা-আবর্জনা নদীতে না ফেলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নগরজুড়ে সবুজায়ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে নগরের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, কাশিমপুর বাজার এলাকায় যাতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ এবং নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নদী দূষণের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এতে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বাজার এলাকা পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে কমবে বলে তারা আশা করছেন।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নগরবাসীর সহযোগিতায় গাজীপুরকে একটি পরিষ্কার ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।



