ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

সরকার কমালেও মাধবপুরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস

হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম কমালেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাধারণ ভোক্তারা সেই সুফল পাচ্ছেন না। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২ জুলাই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগের তুলনায় প্রায় ৩০০ টাকা কমানো হলেও উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় দোকানে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারি মূল্য কমানোর কয়েক দিন পরও আগের দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির অভাবে ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি মূল্য নির্ধারণের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, সরকার দাম কমিয়েছে জেনে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো সুফল পাচ্ছি না।

মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েদ মিয়া বলেন, দাম কমার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখনও আগের দামেই কিনতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা কেউ মানছে না।

এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই আগের দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে বাধ্য হয়ে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, আমাদের করার কিছু নেই। নতুন দামে এখনও এলপিজি সিলিন্ডার পাইনি। ডিলারের কাছ থেকে কম দামে পেলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।

তবে জগদীশপুরের ডিলার জজ মিয়া দাবি করেন, তিনি সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। কোনো খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে তার দায় ডিলারের নয়।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারেন।