যশোরের চৌগাছায় আতিয়ার রহমান (৪২) নামে এক বিএনপি কর্মীকে জবাই করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওসমান (৩০) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। নিহত আতিয়ার উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য।
আতিয়ার শারীরিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। একই সঙ্গে বাওড়ের পাশে থাকা তার একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষিকাজ ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
রোববার (২১ জুন) আছর নামাজের পর উপজেলার চৌগাছা, সিংহঝুলী ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী অবস্থানে অবস্থিত বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের সিংহঝুলী ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত ক্যানাল থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আতিয়ারের পিতা ছবেদ আলী ও ছোট ভাই রাশেদ লাশ উদ্ধারের স্থানে জানান, আতিয়ার প্রতিদিন সকালে বাড়ি গেলেও রোববার বাড়ি যাননি। পরে খুঁজাখুজি শুরু করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। এক পর্যায়ে ২১ জুন (রোববার) বিকেল ৫টার দিকে নিহতের ভাতিজা মোঃ হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের ক্যানালের (বাওড়ে পানি প্রবেশের খাল) কচুরিপানার নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তার ডাক চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চৌগাছা থানা পুলিশে সংবাদ দেন। চৌগাছা থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমানকে (৩০) ধরে মারপিট করে নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম জানান, আতিয়ার বিএনপির কর্মী ছিলো। তার বাবা চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। তিনি জানান, বেড়গোবিন্দপুর বাওড় কেন্দ্রীক তাদের সাথে কিছু লোকের বিরোধ ছিলো। তারা আগেও তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনকে আহত করেছিলো। সে বিষয়ে মামলাও হয়েছিলো। তিনি বলেন, যে বা যারাই এই নিকৃষ্ট হত্যাকান্ডে জড়িত থাকুক তাদের দ্রæত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
এ রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা ৭টায় চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে মৃতদেহের সুরাহতল রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছিলো। সুরাহতল প্রতিবেদন শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার কওে ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহতের গলা ও পেট এবং পিঠের ডান পাশে বগলের নীচে কাটার দাগ রয়েছে। ওসি মামুনুর রশীদ আরও জানান, এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করে আটকের অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

