ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পরতে পরতে দুর্ভোগ!

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য আসা মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানির শেষ নেই। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রবেশ করা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয়। রোগীদের ভাষ্যমতে টিকিট কাউন্টারে দুর্ভোগ, চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করতে দুর্ভোগ, ক্যাশ কাউন্টারে দুর্ভোগ, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ভোগ, পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার সময়ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 একাধিক রোগী জানান, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে টিকিট কাউন্টারে। অথচ মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিতরণ করা হয়। যে কারেণ টিকিট পেতে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। টিকিট নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দুর্ভোগের মুখে পড়ে রোগীরা।

শত শত রোগী সিরিয়ালে থাকলেও দেখা যাচ্ছে চেম্বারে চিকিৎসক নেই। নাস্তার জন্য বের হয়ে আধা ঘণ্টায়ও চেম্বারে ফেরেন না চিকিৎসক। আবার চেম্বারে থাকলেও রোগীর চিকিৎসা প্রদানে রয়েছে গাফিলতি। যে কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে রোগীদের দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসক যদি ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দেন তাহলে ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিতে গিয়ে রোগীদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। দুটি কাউন্টারে টাকা জমা নেওয়ার কারণে এখানেও রোগীদের দুর্ভোগ। আবার বেলা ১১টার পর ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা নেওয়া হয় না। যে কারণে অনেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকা দিতে ব্যর্থ হন। এ জন্য রোগীদের অপেক্ষা করতে হয় পরের দিন পর্যন্ত।

চুড়ামনকাটি গ্রামের সাথী বেগম নামে এক গৃহবধূ জানান, চিকিৎসাসেবার জন্য এসে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে সব বিভাগে দীর্ঘ লাইনের কবলে পড়তে হয়। রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব করে টিকিট কাউন্টারে জনবল বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী  মুন্না, পারভিনা খাতুন, মুকুল হোসেন, শিরিন আক্তারসহ আরও অনেকেই জানান, এখানে ক্যাশ কাউন্টার দুটি, তারপরও আবার টাকা জমার নির্ধারিত সময় করে দেওয়ায় অনেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছেন না। এ জন্য তাদের আবার পরের দিন আসতে হয় হাসপাতালে। টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে আবার তাদের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেখানেও জমে যায় রোগীদের দীর্ঘ লাইন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক সময় প্যাথলজি বিভাগ থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয় পরের দিন। ফলে চিকিৎসাসেবার জন্য আবারও তাদের আসতে হয় হাসপাতালে। এমন দুর্ভোগের শিকার রোগী আতিকুর রহমান ও জয়নাল আবেদিন  জানান,  পরের দিন এসে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেতেও তাদের দুর্ভোগের সম্মুর্খীন হতে হয়। সেখানেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে এসে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের সময় লাগে ২/৩ দিন

এদিকে, অন্তঃবিভাগে রোগীদেরও চিকিৎসাসেবায় রয়েছে নানা দুর্ভোগ ও হয়রানি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টরা রক্ত ও প্রসাব সংগ্রহ করতে আসেন দুপুরের পর। অনেক সময় স্বজনরা তাগিদ দিলে বলা হয় রোগীকে এখানে আনেন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ ইচ্ছামতো দায়িত্ব পালন করার কারণে তারা রিপোর্ট হাতে পান পরের দিন বেলা ১টার পর। রোগীদের দাবি অনুযায়ী, টিকিট কাউন্টার , ক্যাশ কাউন্টার ও প্যাথলজি বিভাগে জনবল বাড়ানো ও চিকিৎসকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলে রোগীদের দুর্ভোগ ও হয়রানি কিছু লাঘব হবে।

শিরিনা খাতুন, রাহাত আলীসহ আরও কয়েকজন জানান, নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধ ফার্মেসিতে গেলে সেখানে মিলছেনা। সরকারের বিনামূল্যে সরবরাহকৃত প্যারাসিটামল ট্যাবলেট পর্যন্ত নেই। ওষুধ সংকটের কারণে শেষ হয়ে গেছে বলে ফার্মেসিতে দায়িত্বরতরা জানাচ্ছেন। ফলে তাদের মত অনেক গরিব রোগী ওষুধ কিনতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫শ’ ছাঁড়িয়ে যায়। বর্হিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হিমশিম অবস্থা। তারপরও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি অকপটে স্বীকার করেন।