জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি উপজেলায় সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ধরতে গিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার গাড়ির নিচে চাপা পড়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক সাংবাদিক। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ছুটির দিনে বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঠ ১২-০৭৯৯) নিয়ে বগুড়া যান। ফেরার পথে মোকামতলায় সাংবাদিকরা গাড়িটি থামিয়ে গন্তব্য জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিককে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিক সরে গেলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এলএসপি আব্দুল আলিম রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে ফোনে ওই সাংবাদিকের ‘দুই পা কেটে নেওয়া’ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এদিকে, ক্ষেতলাল ইউএনও সানজিদা চৌধুরীর স্বামী রাকিবুল হাসানকে বগুড়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি (জয়পুরহাট ঘ-১১-০০১৩) ব্যবহার করা হয়। চালক আশরাফুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে সার্ভিসিংয়ের অজুহাত দেন, কিন্তু কোনো ভাউচার দেখাতে পারেননি। একই দিন পাঁচবিবি ইউএনও সেলিম আহমেদের বরাদ্দকৃত গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৪-৮৭৯৬) তার স্ত্রী ও পরিবারকে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। রাকিবুল হাসান নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পদে কর্মরর্ত আছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, এসব ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়া জনআস্থা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশ চন্দ্র রায়কে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে তার নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি তিনি।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, আমি গাড়িটি সার্ভিসিংয়ে পাঠিয়েছিলাম, তখন আমার হাসবেন্ডকে নামিয়ে দিয়েছে। আমার কাছে গ্যারেজের স্লিপ আছে। ড্রাইভারের স্লিপ দিতে পারেনি বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ক্ষেতলাল ইউএনওর স্বামী ও নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রাকিবুল হাসানের কাছে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাকে সেটা বলতে হবে কেন? এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না, আপনি ইউএনওর সাথে কথা বলেন।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য কল করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় শুনে কল কেটে দেন তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মহির উদ্দিন বলেন, গাড়ির বিষয়ে আমার সাথে তিনি কোনো কথা বলেননি। সরকারি গাড়ি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। হুমকি দেওয়াসহ সব খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া বলেন, ইউএনওরা আমাকে জানিয়ে ছিলেন, গাড়িগুলো রিপিয়ারিংয়ে পাঠিয়েছিল। গাড়িতে উনাদের পরিবার ছিল বললে তিনি বলেন, সেটা জানি না তবে আমাকে রিপিয়ারিংয়ের কথাই জানানো হয়েছিল। আর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিষয়টি তার কন্ট্রোলিং অফিসারকে জানান, তিনি বিষয়টি দেখবেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, আপনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক সাহেবের সাথে কথা বলেন। আপনি বললেন, আমি শুনলাম, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন