ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জয়পুরহাটে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ পিন্টুর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সরকার দেশের ভূমিহীন, দিনমজুর ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করে থাকে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদে ১২শ ৯৪ পরিবারের জন্য ১২ মেট্রিক টন ৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ভিডিও ও সংক্ষিপ্ত লেখা পোস্ট করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, নির্ধারিত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অনেক উপকারভোগী ৬, ৮ বা ৯ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। পোস্টে বলা হয়, সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ধারণ করা ভিডিওতে এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে বিষয়টির তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ৪ নং তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদ, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট। তারেক রহমানের নির্দেশে আজকে পিন্টু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অসহায় মানুষের জন্য ১০ কেজি চালের বরাদ্দ আমরা সকাল ১০টা থেকে ১০ টা ৪০ মিনিট সময়ের ভিডিওচিত্র তুলে ধরেছি। সেখানে দেখা যায়, সেই চাল কেউ ৬ কেজি, কেউ ৮ কেজি, আবার কেউ ৯ কেজি করে পাচ্ছে। এ দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় কে নেবে? প্রশাসন এটার সঠিক ব্যবস্থা না নিলে তিলকপুর ইউনিয়নের ছাত্র-যুব সমাজ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আদর্শ তিলকপুর গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তিলকপুর ইউনিয়নের ছাত্র ও যুবসমাজ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। তারা একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত তিলকপুর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ পিন্টু। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পরিষদের বাউন্ডারির ভেতরে কোথাও চাল কম দেওয়া হচ্ছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিষদ তার দায়ভার নেবে। কিন্তু কিছু ছেলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিনশ ফুট দূরে আনিজ সাহেবের বাড়ির কাছে চাল ধরে মাপামাপি করছে। পরিষদের বাইরে কোথায় কী হচ্ছে, তার দায়ভার আমাদের নয়। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানানো।

তিনি আরও বলেন, চাল বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, একজন ফোন করেছিলেন। সেখানে সকাল থেকে আমাদের ট্যাগ অফিসার রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।