ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুদানে নিহত পাকুন্দিয়ার সেনাসদস্য জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম
নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী জাহাঙ্গীর আলম

সুদানের আবেই শহরে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী জাহাঙ্গীর আলমকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে চিরবিদায় জানালেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন এলাকার হাজারো মানুষ। অবশেষে তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে মেস ওয়েটার জাহাঙ্গীর আলমকে বহনকারী সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার জাঙ্গালিয়ায় ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে।

গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পাকুন্দিয়া উপজেলার তারাকান্দি গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় এই বীর সৈনিককে।

আছরের নামাজের পর বাড়ির সামনে ফসলের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। পরে তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার সেনানিবাস কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জাহাঙ্গীর আলম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন। তার ব্যক্তিগত নম্বর (সিএস-২২০১০৯)। প্রায় ১১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় জন শান্তিরক্ষী শাহাদত বরণ করেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেজ। তার বড় ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসী এবং ছোট ভাই মো. শাহিন মিয়া কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। স্ত্রী ও তিন বছর বয়সি একমাত্র সন্তানকে রেখে গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সুদানে যান তিনি।