কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘরসহ মূল্যবান গবাদি পশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি আলম ভূঁইয়া (৪০)। এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে তার বহু কষ্টে গড়া স্বপ্নের খামার।
ক্ষতিগ্রস্ত আলম ভূঁইয়া তাড়াইল উপজেলার সাচাইল সদর ইউনিয়নের পশ্চিমের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নূরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আলম ভূঁইয়া জানান, প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে গরুগুলোর পরিচর্যা শেষ করে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ২টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে গেলে বাইরে বের হয়ে দেখি, গোয়ালঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে।
সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় ততক্ষণে গোয়ালঘর ও ভেতরে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে পিজিয়াম জাতের দুটি গাভি পুড়ে মারা যায়। এর মধ্যে একটি গাভি প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি দুধ দিত এবং অপরটি ছিল ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গরু দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত গোয়ালঘরও সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
গোয়ালঘরের পাশে রাখা কিছুদিন আগে ২০ হাজার টাকায় কেনা খড়ের গাদাও আগুনে পুড়ে যায়। আলম ভূঁইয়া আরও জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আমি এই স্বপ্নের খামারটি গড়ে তুলেছিলাম। অনেক কষ্ট করে, ধারদেনা করে খামার দাঁড় করিয়েছিলাম। এখন গরু নেই, ঘর নেই; কিস্তি কীভাবে দেব, বুঝতে পারছি না।
তাড়াইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আতিকুল আলম জানান, খবর পেয়ে রাত ২টা ২৫ মিনিটে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও আলম ভূঁইয়ার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তার সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারটি আগেই আর্থিক সংকটে ছিল। এ ঘটনায় পরিবারটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।


