ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কালোবাজারে তেল বিক্রি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
তেল নিয়ে সংঘর্ষ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কালোবাজারে তেল বিক্রয় নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা রফিক ফিলিং স্টেশনে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল্লারদর্গা রফিক ফিলিং স্টেশনের মালিক রফিক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের মাঝে দিনের বেলায় সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করে রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতেও তিনি কালোবাজারে তেল বিক্রয় করছিলেন। এ সময় ঝড়ো হাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে ফিলিং স্টেশন মালিক স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে মজুদকৃত তেল গোপনে পাচারের জন্য ড্রাম ও কন্টেইনারে ভরতে থাকেন। 

তবে তেল বণ্টন নিয়ে নিজেদের মধ্যেই বিরোধ সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আপাং মন্ডল (৬৫), তার ছেলে রানা (২৩), একই এলাকার হেলাল (৬০), আমিনুদ্দিন (৭০), রাজা (৩০), রত্না খাতুন (৩০) ও শিউলী খাতুন (৩৫) আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনটির মালিক রফিক দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে তেল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। এমনকি গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের মোটরসাইকেলে সীমিত তেল সরবরাহ করে রাতের আঁধারে কালোবাজারে উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করে থাকেন তিনি। 

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিং স্টেশনটির মালিক রফিক বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, রাতে তেল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রয়ের সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ওপর মহলের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে রাতের আঁধারে কালোবাজারে তেল বিক্রয়ের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রফিক ফিলিং স্টেশনের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।