ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ছোড়া রাবার বুলেটে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হওয়া এবং এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুলি নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসূতি সীমান্তে ৮৮৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০ গজ ভেতরে রহমতপুর গাটিয়ারভিটা এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সুনীল কুমার।
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন ধবলসূতি বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার বাদশা মিয়া জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে গাটিয়ারভিটা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছোড়া রাবার বুলেটে মিজানুর রহমান (২০) কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ভারতীয় নাগরিক সহদেব বর্মণকে গরুসহ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, আহত মিজানুর রহমান গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে ভুলবশত সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করে প্রায় ১০ গজ ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক ভারতীয় নাগরিককে গরুসহ বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।
আহত মিজানুর রহমান বর্তমানে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক জানান, আহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছেন।
আহত যুবকের বাবা মফিজুল ইসলাম, যিনি রহমতপুর গাটিয়ারভিটা এলাকার একজন কৃষক বলেন, ‘আমার ছেলে গরুর জন্য ঘাস কাটতে সীমান্তে গিয়েছিল। সে কোনো চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নয়। ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করায় এ ঘটনা ঘটেছে। ভাগ্য ভালো, গুলি কাঁধে লেগেছে—অন্য কোথাও লাগলে বড় ক্ষতি হতে পারত।’
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘আমরা বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুলি নিক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছি। আটক ভারতীয় নাগরিককে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন