× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হাসানুজ্জামান হাসান, (কালীগঞ্জ) লালমনিরহাট

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

বিকেলে উদ্বোধন, রাতেই ফাটল

হাসানুজ্জামান হাসান, (কালীগঞ্জ) লালমনিরহাট

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত একটি সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেলে খুলে দেওয়ার পর রাতেই সেতুর একটি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

তারা নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বোর্ডেরহাট এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে। ফলে চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি একটি সেতুতে ফাটল দেখা দেয়, তাহলে প্রকল্পের বাকি অবকাঠামোগুলোর গুণগত মান কতটা নিরাপদ? প্রায় ১৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, সেটিও এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার এবং চারটি সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সড়ক সংস্কার ও সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বোর্ডেরহাট এলাকার সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং শনিবার বিকেলে সেটি যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অপর তিনটি সেতুও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন গোলাম মাওলা।

বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘শনিবার বিকেলে সেতুটি খুলে দেওয়া হলেও রাতেই ফাটল দেখা দেয়। এটি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। নির্মাণকাজে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি না হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগেও সড়ক ও সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলাম। তখন ঠিকাদার আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষও আমাদের অভিযোগ আমলে নেয়নি, বরং ঠিকাদারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও যদি সড়ক ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, তাহলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে এই প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘সেতু খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাটল দেখা দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে বোঝা যায় নির্মাণকাজে কতটা অনিয়ম হয়েছে। ফাটলটি ধীরে ধীরে আরও বড় হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সড়ক ও সেতুর বিষয়ে যা জানার, এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।’ এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মূল সেতুতে কোনো ফাটল দেখা দেয়নি। সেতুর প্রোটেকশন স্ট্রাকচারের একটি অংশে সামান্য ফাটল হয়েছে। মাটি ভরাটের চাপের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ঠিকাদারকে তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এই পর্যায়ে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের দায়িত্ব ঠিকাদারের।’

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজন হলে সেতু ও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। পুরো প্রকল্পটি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Link copied!