কক্সবাজারের উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল একসময় ছিল বন্য হাতির নিরাপদ বিচরণভূমি। পাহাড়, বন আর প্রাকৃতিক করিডোর ধরে অবাধে চলাচল করত এ দেশের বৃহত্তম স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণীটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেললাইন, ক্যান্টনমেন্ট, মহাসড়ক নির্মাণ, বসতি সম্প্রসারণ এবং বনভূমি দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে হাতির চলাচলের ঐতিহ্যবাহী পথ। ফলে দিন দিন বাড়ছে মানুষ ও বন্য হাতির মুখোমুখি সংঘাত।
এই সংকট মোকাবিলা এবং হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের মেধাকচ্ছপিয়া বিটে আয়োজন করা হয় তিন দিনের হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার। ১৯ জুন কর্মশালার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো।
প্রশিক্ষণে বন্য হাতির আচরণ, করিডোর সংরক্ষণ, সংঘাত এড়ানোর কৌশল এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বন সংরক্ষক এএসএম জাহির উদ্দিন আখন, বন ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন এবং সহকারী বন সংরক্ষক শীতল পাল।
ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কুদ্দুসুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান এলাকার লেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের বার্তা দেওয়া হয়।
১৯ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে বননির্ভরশীল মানুষ, বন জায়গীরদার, ইআরটি সদস্য, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা হাতি সংরক্ষণে নিজেদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই নিশ্চিত করতে হবে বন্য হাতির নিরাপদ আবাস ও চলাচল। হাতির করিডোর সুরক্ষা, বন পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগই পারে মানুষ-হাতির সংঘাত কমিয়ে সহাবস্থানের পথ সুগম করতে। কারণ হাতি শুধু একটি প্রাণী নয়, বনজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের টিকিয়ে রাখা মানেই প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন