× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

এলপিজি সিন্ডিকেটে অসহায় প্রশাসন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

এলপিজি সিন্ডিকেটে অসহায় প্রশাসন। ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি সিন্ডিকেটে অসহায় প্রশাসন। ছবি : সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরুতে দেশে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আমদানিকারক কোম্পানি ও পরিবেশকরা একে অপরকে দায়ী করলেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত দামের চাপ পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর।

রোববার (৫ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস ১৮৫০ থেকে ২১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

ব্যাংক কর্মকর্তা মিঠুন দাস জানান, শহরের দুধবাজার এলাকায় একটি দোকানে পেট্রোম্যাক্স গ্যাসের দাম চাওয়া হয় ১৯০০ টাকা। পরে পাশের দোকান থেকে ১৮৫০ টাকায় কিনেছেন।

আরেক ভোক্তা সাফওয়ান মেহমেদ বলেন, ওমেরা কোম্পানির ১২ কেজির গ্যাস ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ এত দাম বাড়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তবে গ্যাস ছাড়া রান্না সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

দুধবাজার এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক নুর ইসলাম বলেন, তারা ১৮৫০ থেকে ২০০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছেন। ডিলারের কাছ থেকে যে দামে কিনছেন, তার চেয়ে ১০০ টাকা লাভে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

মক্কা মদিনা ট্রেডার্সের মো. খবির হোসেন বাবু জানান, তার দোকানে আইগ্যাস ১৮০০ টাকায় কিনে ১৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক পরিচালক আপন মোল্লা বলেন, টোটাল গ্যাস ২১০০, বেক্সিমকো ২০০০ এবং আইগ্যাস ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গণধরপট্টি এলাকার বুলবুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বুলবুল হোসেন জানান, ফ্রেশ গ্যাস ২০০০, ওমেরা ও টোটাল ২১০০ এবং বসুন্ধরা ২১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৮০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০০–১৫০ টাকা লাভ না করলে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।

এলপিজির পরিবেশক মো. সেলিম বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের দাম ভিন্ন। তারা ১৭৪৫ থেকে ১৭৯৮ টাকায় কিনে ৫০ টাকা লাভে ১৮০০ থেকে ১৮৫০ টাকায় বিক্রি করেন।

আরেক পরিবেশক আরিফুর রহমান শিবলু জানান, তিনি পেট্রোম্যাক্স কোম্পানির ডিলার। তার গ্যাসের ক্রয়মূল্য ১৭২০ টাকা, বিক্রি করেন ১৮০০ টাকায়। তিনি প্রশ্ন করেন, এ দামে কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কীভাবে সম্ভব? 

তিনি আরও বলেন, গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে কোম্পানি আর কোনো কমিশন দেয়নি।

এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর পরিবেশকদের কাছে ১৬৩৩ টাকায় গ্যাস সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ১৭০০ থেকে ১৯৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এবং কমিশনও দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং অনিয়ম বন্ধের দাবিতে রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।

সমিতির নেতারা দাবি করেছেন, কোম্পানিগুলোর বিক্রয়মূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত দামে পরিবেশকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশকদের জন্য ন্যায্য কমিশন চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।

সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, কোম্পানিগুলোর অনিয়মের কারণে পরিবেশকদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, ফলে তারা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। এতে ব্যবসায়ীরা অভিযুক্ত হচ্ছেন এবং জরিমানার মুখে পড়ছেন। এই অস্থিরতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ডিলাররা বেশি দামে গ্যাস কিনলে ভাউচারসহ প্রমাণ দিলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে প্রমাণ ছাড়া মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং শিগগিরই গ্যাসের বাজারেও অভিযান চালানো হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!