ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

মৌলভীবাজারে কুড়ালের আঘাতে পিতাকে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ পিতাকে কুড়াল দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে সৌদি প্রবাসী ছেলে মো. ফয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত দুইটার দিকে ঢাকার কদমতলী থানার পাগলা ওয়াসা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জুড়ী থানাধীন ৮নং গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রিগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে পারিবারিক কলহের জেরে সৌদি প্রবাসী মো. ফয়াজ মিয়া তার পিতা সুলতান আলীকে পেছন দিক থেকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সুলতান আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর ফয়াজ মিয়া পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে জানান, তার পিতা উঠানে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে তার ভাই আয়াজ মিয়ার স্ত্রী শামীমা আক্তার এবং বড় ভাই সামছু মিয়ার স্ত্রী হোছনা বেগম পুরো ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন।

পরবর্তীতে নিহতের মেয়ে হ্যাপি বেগম এবং ফয়াজ মিয়া নিজেই আহত সুলতান আলীকে দ্রুত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে ফয়াজ মিয়া জানান, তিনি পরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়ে যান।

পরদিন ২৭ জুন নিহতের দাফনের সময় ফয়াজ মিয়া বাড়িতে উপস্থিত না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ সময় শামীমা আক্তার ও হোছনা বেগম পরিবারের সদস্যদের জানান, ফয়াজ মিয়াই কুড়াল দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে সুলতান আলীকে হত্যা করেছেন।

পরে নিহতের স্বজনরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করলে তাদের পরামর্শে মরদেহ দাফন না করে জুড়ী থানায় সংবাদ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে নিহতের ছেলে সাহেদ মিয়া থানায় এজাহার দায়ের করলে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।

মামলা রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঢাকার কদমতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ফয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।