ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নির্বাচনি সহিংসতা নয় বলে দাবি করেছে উপজেলা বিএনপি। তাদের দাবি, মূলত ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ সময় কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা এই ঘৃণ্য চক্রান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
নেতারা আরও স্পষ্টভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, নজরুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থী বা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সামান্যতম সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হবে। মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন শেষে গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে নির্বাচনি সহিংসতা আখ্যা দিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে তারা বিএনপির নেতৃবৃন্দের মানহানি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতারা আরও বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের (স্বতন্ত্র প্রার্থী) পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হত্যার হুমকি ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের রাজনীতি করে নির্বাচন বানচাল করার যে চেষ্টা চলছে বিএনপি তা কখনোই মেনে নেবে না।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম কাজল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম বাবুল, আ. কুদ্দুস প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার এরশাদ বাজার এলাকায় নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরদিন এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিকসহ বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি জানতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন সে জন্য মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। জনমনে যেন কোনো ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন