আদালতের দেওয়া কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভিপি আলমগীর আলম বিপ্লব। ২৬ বার আদালতের তাগিদ সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া সাংবাদিকদের জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলমগীর আলম বিপ্লবকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসপি) ও হালুয়াঘাট থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি ওসি ওয়ারেন্ট তামিল না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ওসির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিআইজি আরও মন্তব্য করেন, ‘সব ওসির কর্মক্ষমতা সমান নয়; অন্য কোনো দক্ষ কর্মকর্তা হলে এতদিনে ওয়ারেন্ট তামিল হয়ে যেত।’
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, ‘আলম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। আমরা তাকে খুঁজছি। ধরার চেষ্টা করছি।’ তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন, তারপরও কেন তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘না, আমরা আমাদের চেষ্টা করছি।’
যদিও মঙ্গলবার আলমগীর আলম বিপ্লবকে থানার আশপাশে বেশ কয়েকবার দেখেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলমগীর আলম বিপ্লবকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ঋণ খেলাপের দায়ে ২০১৮ সালে আলমগীর আলম বিপ্লবকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ বার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা তাগিদপত্র পাঠালেও হালুয়াঘাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
সর্বশেষ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী ব্যাংক ম্যানেজারের অভিযোগ, বিপ্লব পলাতক নন। তাকে নিয়মিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সভা-সমাবেশে প্রথম সারিতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি সোমবার সকালেও তিনি একটি জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির এমন বিচরণকে পুলিশের ‘রহস্যজনক নির্লিপ্ততা’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


