ময়মনসিংহের ত্রিশালে মসজিদের ইমাম কর্তৃক ৫ বছরের শিশু লাঞ্ছিত। ইমাম শাহিনুর ইসলামের কাছে শিশুটি আরবি পড়তে যেত। সঙ্গে আরও দুই ছেলে শিশুও আরবি পড়তে যেত। শনিবার বিকেলে শিশুটি আরবি পড়তে গেলে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরায় শিশুটির মা খোঁজ নিতে গিয়ে মসজিদের ভেতর তার মেয়ে ও ইমাম শাহিনুর ইসলামকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখেন। এ অবস্থায় শিশুটির মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ইমামকে আটক ও মারধর করে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
প্রাইভেট পড়তে যাওয়া সাড়ে ৫ বছরের শিশুকে আনতে গিয়ে মসজিদের ভেতরে শিশুর সাথে ইমামকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখেন মা। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক পুলিশে সোপর্দ করে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই শিশুর বাবা বাদী হয়ে ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আসামি করে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম।
ভুক্তভোগী শিশু জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইমাম শাহিনুর ইসলামের কাছে শিশুটি আরবি পড়তে যেত। সঙ্গে আরও দুই ছেলে শিশুও আরবি শেখে। শনিবার বিকেলে শিশুটি আরবি পড়তে গেলে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফেরেনি। দেরি হওয়ায় শিশুটির মা খোঁজ নিতে গিয়ে মসজিদের ভেতর তার মেয়ে ও ইমাম শাহিনুর ইসলামকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ইমামকে আটক ও মারধর করে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
শিশুটির মা বলেন, মেয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় আমি মেয়েকে খুঁজতে বের হই। খুঁজতে গিয়ে মসজিদের ভেতরে ইমাম ও আমার মেয়েকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে ইমামকে মসজিদে আটকে রাখে ও আমার মেয়েকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।
ত্রিশাল থানার ওসি মো. মনসুর আহমেদ বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত নন, ফরেনসিক পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার পর আটক শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন