ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

নওগাঁয় ড্রাইভার-হেলপারকে বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নওগাঁয় ড্রাইভার ও হেলপারের হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মণ) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এ সময় রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌঁছালে ডাকাতদল সামনে ব্যারিকেড দেয়। পরে ট্রাকের ড্রাইভার মারুফ ও হেলপার শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ডাকাতরা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে পুলিশ ডাকাত দলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ডাকাত সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সামিউল পালিয়ে গেলেও আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে রাকিব হোসেন শরীফ, রফিকুল ইসলাম অপু ও সাজিদুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।