নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে রোববার (২৬ এপ্রিল) দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় দিন-রাত নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে।
ট্রাক্টরের অবিরাম চলাচল এবং নদীপাড়ে বালুর বিশাল স্তুপে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে অবৈধ বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালী একটি চক্র এই বালু ব্যবসা পরিচালনা করছে।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীর তীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মুকুল বলেন, আমরা গরিব মানুষ, সরকার মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। এখন বালুখেকোদের কারণে সেই ঘরটুকুও হারানোর ভয় হচ্ছে।
শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পই নয়, নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই জমির অংশ নদীতে বিলীন হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
একজন কৃষক হানিফ বলেন, মিজান, দেলোয়ার, সুমন ও হিরো নামে কয়েকজন ইসবপুর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা গত দেড় বছর ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে। বাধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ফসল রক্ষায় কিছু জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরেছি।
ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যান শ্রমিকরা। পরে এক শ্রমিক স্বীকার করেন, কোনো ইজারা ছাড়াই এখানে বালু উত্তোলন চলছে এবং প্রতি ট্রাক্টর বালু ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সবকিছু একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়ন্ত্রণ করে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষ হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযান শুরুর আগেই অনেকেই স্থান ত্যাগ করে। কিছু জায়গায় বালুর স্তুপ রয়েছে, সেগুলো জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন এত অভিযোগ ও অভিযান সত্ত্বেও কেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না? তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ছোট যমুনার এই দুই পয়েন্টে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ফসলি জমি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।


