ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ব্যবসায়ীকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলায় এমপি আল আমিন ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
বিকেএমইএ-র সভাপতি হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলায় ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়েন এমপি। ছবি- সংগৃহীত

দেশের নিট ব্যবসায়ীদের বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়েন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এসসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানস্থলে এমপিকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরামের ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ রাত ৮টার দিকে এমপি আল আমিনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, জামায়াতের ওই ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন উভয়ই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে মঞ্চে মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে এমপি আল আমিন ক্ষুব্ধ হন এবং মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নিজের বক্তব্যে তিনি হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমি ফ্যাসিস্টের দোসরের সঙ্গে এক মঞ্চে বসব না।’

এমপির এমন মন্তব্যের পরপরই উপস্থিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মোহাম্মদ হাতেম অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলে তার সমর্থনে শত শত ব্যবসায়ী ও অনুসারীরা এমপিকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা এমপি আল আমিনের এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার একাধিক শিল্পমালিক জানান, মূলত হাতেম ভাইয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ব্যবসাবান্ধব ভূমিকার কারণেই আমরা প্রতিকূল পরিবেশেও নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। আজ তিনি না থাকলে আমরা অনেক আগেই আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গাজীপুর বা অন্য জেলায় স্থানান্তর করতাম। আমাদের অভিভাবককে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস এমপি কোথা থেকে পান?

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য আল আমিনকে রাত ৮টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে শহরের চাষাড়ায় তার দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, হাতেম সাহেব ও এমপি আল আমিন সাহেব দুজনই আমাদের দাওয়াতি অতিথি ছিলেন। কিন্তু এমপি সাহেবের বক্তব্যের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নিচ্ছি।