নাটোরের নলডাঙ্গায় শালিক পাখি শিকার করে জবাই করার দায়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মো. জাহিদুল ইসলাম (ফরেস্ট রেঞ্জার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নাটোর এসএফএনটিসি, সামাজিক বনবিভাগ,রাজশাহী) বাদী হয়ে মামলা করেন।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলা ৩নং খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিল এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারীরা শালিক পাখি শিকার করে জবাই করে। কতিপয় অশাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করে জবাই করে। পাখির মাংশ ভক্ষনের হীন উদ্দেশ্য কতিপয় অসাদু ব্যক্তি ফাস জাল বা বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করে। বন্যপ্রাণী ( সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ এর তপশীল ২ এর অন্তর্ভুক্ত উল্লিখিত পাখিগুলো শিকার করা উক্ত আইনের ধারা ৪২(১) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাখি প্রকৃতির অলংকার। ফসলের, ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। রোববার বিকেলে নলডাঙ্গা থানায় পাখিগুলো শিকার করে ওই আসামিরা বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করেছে মর্মে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শালিক পাখি শিকারের পর জবাই করার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে সপ্তাহখানেক আগে। এ ঘটনার ভিডিও গত শনিবার সকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২০ সেকেন্ড ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন লোক একটি বিল এলাকায় ফাঁদ দিয়ে শালিক ধরে তা জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রেখেছেন।
ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে পাখি হত্যার ভিডিওগুলো দেখার পর মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ পাখি শিকারিদের দেশের শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, পাখি হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জুলাই উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে। পাখি শিকারের জায়গায় হাটবিলা গ্রামের বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন এবং সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জবাইয়ের পর পাখিগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে ফেলা হয়।
বন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, নলডাঙ্গার হাটবিলা এলাকায় সংঘটিত নির্মম পাখি হত্যার ঘটনাটি আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। নিরীহ শালিক পাখিকে ফাঁদ পেতে ধরে জবাই করার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা শুধু একটি অপরাধই নয়, আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর সরাসরি এক আঘাত। এই ঘটনার বিরুদ্ধে নাটোর বন বিভাগের পক্ষ থেকে নলডাঙ্গা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক আইনের আওতায় আনবে।
মনে রাখবেন, বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই পাখিগুলো আমাদের কৃষি ও পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সোচ্চার হবো এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। প্রকৃতি রক্ষা মানেই জীবন রক্ষা, আসুন সবাই মিলে একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
নলডাঙ্গা থানার ওসি মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তসাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

