ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ধর্ষণে মেয়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত বাবা গ্রেপ্তার

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ১৫ বছর বয়সি কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করতে শুরু করেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওই কিশোরী বাবার লালসার শিকার হতে থাকে।

পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরী ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসার কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। অবশেষে আত্মগোপনে থাকা শফিকুলকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়।

পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। 

তিনি জানান, মামলা দায়ের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শিগগিরই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।