× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

পির হত্যা : শিবির সভাপতিসহ ২০০ জনের নামে মামলা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পির’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)-কে প্রধান আসামি করে ২০০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় চারজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু। মামলার অপর তিন আসামি হলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত-সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব (সাফি) (৪৫)। এ ছাড়াও অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়। তবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পাঁচ দিন পার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

হত্যা মামলার বিষয়ে প্রধান আসামি জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদ বলেন, ‘যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি কোনো ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নই। আমাকে কেউ কেউ ফোন দিয়ে আমার আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। আমি সবসময় বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে তাদের পরামর্শ দিয়েছি, এটা আইনের মাধ্যমে সুরাহা হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও জানতাম না যে মানুষ তাকে (শামীম) এভাবে হত্যা করবে। আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, কারণ এলাকায় জনসম্পৃক্তমূলক কাজ করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাকে ফিলিপনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি যাতে প্রার্থী হিসেবে ভূমিকা রাখতে না পারি এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, সে কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ফেলেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।’

এদিকে, শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদকে ‘পির’ হত্যায় প্রধান আসামি করা এবং হত্যাকাণ্ডে জামায়াতের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ হওয়ায় দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিপনগরের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়; এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন। স্থানীয়রা আকস্মিকভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে—এটি কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ নয়।

হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, স্থানীয় কিছু লোক দরবারে হামলা চালায়। তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পির হত্যার ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, পির হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার ভোর ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে শিগগিরই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, দরবারে হামলার দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও ২২ থেকে ২৫ জনকে শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ‘পির’ শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় তার ভক্ত ও এলাকাবাসী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের ফাঁসির দাবিতে ফিলিপনগর দরবার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

এর আগে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সি শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল মানুষ ‘পির’ শামীম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তার আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারী যুবকরা শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর হামলাকারীরা সংগঠিতভাবে আস্তানায় আগুন দেয় এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। নির্মম এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

Link copied!