মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। প্রতি বছরই এসব হাটে বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির বিভিন্ন জাতের গরু মানুষের নজর কাড়ে।
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। লাভের আশায় কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করে এখন বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শত শত খামারি। উপজেলাটিতে এবার কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাজার হাজার গরুর মধ্যে আলাদাভাবে নজর কাড়ছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার চৌবাড়িয়া হারোপাড়া এলাকার জনতা ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মের দানবাকৃতির ষাঁড় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। কুচকুচে কালো রঙ, সুঠাম গঠন ও বিশাল আকৃতির কারণে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে গরুটি। বিশালাকৃতির এই ষাঁড়কে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, এটিই ভাঙ্গুড়া উপজেলার সবচেয়ে সুদর্শন গরু।
খামার সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির জন্য খামারে দেশি, ফ্রিজিয়ান ও শাহীওয়ালসহ বিভিন্ন জাতের শতাধিক গরু প্রস্তুত রয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্ল্যাক ডায়মন্ডকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ ও পাইকাররা। বিশাল আকৃতির কারণে গরুটিকে হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর হওয়ায় খামার থেকেই বিক্রি করতে চান কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ১৪ মণ। সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। তবে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
রোববার (১৭ মে) চৌবাড়িয়া হারোপাড়ায় অবস্থিত জনতা ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে এসে গরু দেখে আগ্রহ নিয়ে দাম যাচাই করছেন। অনেক ক্রেতাই হাটের ভিড়, দরদাম ও রোগাক্রান্ত পশুর ঝুঁকি এড়াতে সরাসরি খামারমুখী হচ্ছেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামটি এখন শুধু হারোপাড়া গ্রামেই সীমাবদ্ধ নেই। গরুটি দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ এর দাম ও ওজন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জনতা ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. রাজু মোল্লা বলেন, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ছোট-বড় সব ধরনের গরু খামারে রাখা হয়েছে, যেন কোনো ক্রেতা খালি হাতে ফিরে না যান। অন্য বছরের তুলনায় এবার খামারে কয়েক শ কোরবানির পশু রয়েছে। খৈল, খড়, ভুসিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’কে বড় করা হয়েছে। বিশাল দেহ ও কুচকুচে কালো রঙের কারণেই ভালোবেসে এ নাম রাখা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে গরুটি বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রুমানা আখতার রোমি বলেন, উপজেলায় ২৬ হাজার ৮৮৭টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩৯ হাজার ৬৪৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। মোট ৬৬ হাজার ৫৩৩টি কোরবানির পশু স্থানীয়ভাবে পালন করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ গবাদিপশুর মাংস উৎপাদনে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ে খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

