পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আলোচিত সিয়াম (২০) হত্যার অভিযুক্ত মোস্তফা মৃধাকে (৫৩) সুবিদখালী বন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছেন মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সুবিদখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার উত্তর সুবিদখালীর কেতাব আলী মৃধার পুত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, মির্জাগঞ্জ থানা এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি মোস্তফা মৃধার বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর বিভিন্ন আদালতে ছয়টি মাদক মামলা বিচারাধীন। সিয়াম হত্যা মামলার গ্রেপ্তারকৃত পূর্বের আসামিদের স্বীকারোক্তি এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা মৃধা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকা রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমন ইসলাম সিয়াম গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর মাদারবুনিয়া এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
এরপর ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে সিয়াম তার খালাতো ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে সুবিদখালী সরকারি কলেজের উত্তর পাশে বালুর মাঠে ঘুরতে যান।
সেখানে অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে এবং তর্কের একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে সিয়াম ও মামুনের মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে।
সিয়াম গুরুতর আহত হলে হামলাকারীরা তাকে মোটরসাইকেলে করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ওইদিন বিকেল পৌনে ৪টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পিতা মো. জুয়েল তালুকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে মো. রাইয়ান ও মো. রাশেদ নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৩ জানুয়ারি লালমনিরহাট থেকে শুভ নামের আর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ মোস্তফা মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুস ছালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোস্তফা মৃধা একজন কুখ্যাত মাদক কারবারি। সিয়াম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত। মাদক দিয়ে কারসাজি, মারধর এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন