ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘মাদক কারবারি ধরি, ৭ দিনেই জামিন পায়‍’

​মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদক নির্মূলে নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম। পুলিশ জীবনের ঝুঁকি ও অর্থ ব্যয় করে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেও তারা কয়েকদিনেই জামিনে বেরিয়ে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ​'গ্রেপ্তারের চেয়ে জামিন দ্রুত'- এমন বার্তা দিয়ে তিনি ​সম্প্রতি এক সভায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। ওসির এই খোলামেলা বক্তব্যর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং মাদক নির্মূলে আইনের ফাঁকফোকর নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ওসি আব্দুস সালাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় হলো, আমরা অনেক কষ্ট করে অপরাধীদের ধরি আর তারা দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। কিছুদিন আগে কাকড়াবুনিয়া থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছি, কিন্তু সে মাত্র ৭ দিনের মাথায় জামিন পেয়েছে। আরেকজন ৯০ পিসসহ ধরা পড়েও একইভাবে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে।

​আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ অসহায় এবং ​মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্যের উদাহরণ টেনে তিনি স্থানীয় মাদক কারবারি মোস্তফার কথা উল্লেখ করেন। ওসি জানান, একটি হত্যা মামলায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হলেও সে মাত্র দেড় মাসের মাথায় জামিনে ফিরে এসেছে। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের হাতে না থাকায় মাদক নির্মূলে নিজেকে 'অসহায়' বলে দাবি করেন তিনি।

​আইনি প্রক্রিয়ার এই সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় জনসাধারণের সরাসরি সহযোগিতা ও সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিয়ে তিনি বলেন​, পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ছে যদি না আপনারা সোচ্চার হন। আপনারা ১০ জন লোক একত্রিত হয়ে যদি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তবে সেটিই হবে বড় শক্তি। আপনারা তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন, আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব।

ওসির এই খোলামেলা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আইনি মহলেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মাদকের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং নির্দেশনা রয়েছে। ১২০ পিস বা ৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ধরা পড়ার পর এত দ্রুত জামিন পাওয়া কাম্য নয়। এতে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বিচারকগণকে এসব ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও কঠোর হতে হবে, নচেৎ যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। এ দায় কারো না কারো ওপর বর্তায়।