রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন। সংকট নিরসনে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত আগের ভাড়াই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আলুচাষি, ব্যবসায়ী, হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জেলা প্রশাসনের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি-দাওয়া যাচাই করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা হবে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আগের ভাড়াই কার্যকর থাকবে।
এর আগে ভাড়া কমানোর দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখেন। তাদের দাবি, প্রকৃত খরচ বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, এক বস্তা আলু সংরক্ষণে খরচ প্রায় ১০০ টাকা হলেও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা, যা অযৌক্তিক।
অন্যদিকে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন