× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

কর্ণফুলীর ওপর নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ক্যাবল স্টেইড সেতু

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাঙামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াকে বিভক্ত করে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সময়ক্ষেপণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটাতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭১ দশমিক ৮৬ লাখ টাকা। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু একটি সেতুই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কী থাকছে প্রকল্পে: প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর ওপর ৫৩২ মিটার দীর্ঘ মূল ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণ করা হবে, যা হবে দেশের প্রথম এ ধরনের স্থাপনা। আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য হিসেবেও বিবেচিত হবে।

এর পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ৪৫৫ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট এবং ৫৩২ মিটার এলিভেটেড সংযোগ সড়ক। এসব অবকাঠামো সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যানবাহন চলাচলকে করবে আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন।

প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে মূল সেতু ও ভায়াডাক্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৮৫০ দশমিক ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে এলিভেটেড সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ২০০ দশমিক ২০ লাখ টাকা।

ফেরির ওপর নির্ভরতা কমবে: বর্তমানে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ পারাপার হয়। তবে ফেরির সীমিত সক্ষমতা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

সওজ রাঙামাটির উপসহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা বলেন, “এই সেতু নির্মিত হলে রাঙামাটি-ঘাগড়া-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ কমবে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।”

অর্থনীতি পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই উন্নত করবে না, বরং রাঙামাটি ও বান্দরবান অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে। কৃষিপণ্য, বনজ সম্পদ ও স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে আগত পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে। ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা: কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “এই সেতু আমাদের এলাকার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। বছরের পর বছর আমরা ফেরির ওপর নির্ভরশীল। একটি সেতু হলে শুধু যোগাযোগ নয়, পুরো অঞ্চলের জীবনমান বদলে যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করছেন, সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ সব ক্ষেত্রেই গতি আসবে।

বাস্তবায়নের অপেক্ষ: যদিও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়, তবুও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে দ্রুত একনেক সভায় এটি পাস হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কর্ণফুলী নদীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি পেছনে ফেলে আধুনিক যোগাযোগের নতুন দিগন্তে প্রবেশের অপেক্ষায় এখন চন্দ্রঘোনা-রাইখালীর মানুষ। এই সেতু শুধু দুই পাড়কে যুক্ত করবে না এটি যুক্ত করবে সম্ভাবনা, উন্নয়ন ও একটি নতুন ভবিষ্যৎ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!