গত ৮-১০ দিনের টানা ঝড়-বৃষ্টি, মূষলধারে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এশিয়া মহাদেশের কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে গেছে। বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি হ্রদে বৃদ্ধি পেলে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় এখনো থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, এভাবে হ্রদের পানি বাড়তে থাকলে রাঙামাটি জেলা শহরের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়া হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবদিকে বিবেচনা করে হয়তো বা আগামী কাল সকাল ১১টার দিকে ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত করা হবে।
এখন জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হ্রদের পানির পরিমান ১০৩.৯১ এম এসএল। যদি হ্রদে পানির পরিমান ১০৭-১০৮ এম এস এল বৃদ্ধি পায় তাহলে অবশ্যই হ্রদের পানি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় হ্রদের নিন্মাঞ্চল তথা রাঙামাটি তলিয়ে যাবে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন সম্পর্কিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
বিজ্ঞপ্তিতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহদুদ হাসান জানিয়েছে, কর্ণফুলী নদীর আশপাশ ও নিন্মাঞ্চলের মানুষ সর্তক হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
তিনি আরও জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লেকের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ৯ হাজার কিউসেক পানি নিস্কশিত হবে।
অন্যদিকে বাঁধের ১৬ টি গেট ৬ ইঞ্চি পরিমান উপর দিকে উঠিয়ে পানি নিষ্কাশান শুরু করা হবে। ইনফ্লো বেশি হলে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমান পর্যাক্রমে বাড়ানো হবে। বর্তমানে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে ৩২,০০০ কিউসেক পানি নিস্কাশিত হচ্ছে।

