ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে ড. শিরীন শারমিন নামের একটি অ্যাকাউন্ট

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একাধিক ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানো হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘৬ মাসের মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালাবেন তারেক রহমান। সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার পুরো রিপোর্ট এখন জাতিসংঘের হাতে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারত থেকে দেশে ফেরা শুরু করেছেন।’

তবে প্রচারিত পোস্টটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথি বা গ্রহণযোগ্য সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি।

গতকাল দেওয়া পোস্ট। 

বিশেষ করে, জাতিসংঘের কাছে কথিত ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রিপোর্ট’ রয়েছে- এমন দাবির সমর্থনে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ‘তারেক রহমান ছয় মাসের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালাবেন’ — এমন দাবিরও কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি মেলেনি।

এ ছাড়া, যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব পোস্ট করা হয়েছে, সেটি আদৌ সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আনুষ্ঠানিক বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ওই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পোস্টকে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অ্যাকাউন্টটির কভার ছবিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত হয়ে থাকতে পারে।

একইভাবে, প্রোফাইল ছবিতে তার একটি ছবি ব্যবহার করা হলেও সেটি অ্যাকাউন্টটির সত্যতা প্রমাণ করে না।

৫ জুলাইয়ে দেওয়া পোস্ট।

এ ছাড়া, একই ধরনের বিভ্রান্তিকর দাবি গত ৫ জুলাইও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। এর আগে ২ জুন অ্যাকাউন্টটিতে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর একটি কথিত এআই-নির্মিত ছবিও পোস্ট করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে ঘিরে ভুয়া উক্তি, এআই-নির্মিত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ ধরনের কনটেন্ট জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গত ২ জুন দেওয়া একটি পোস্ট।