জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রংপুর অঞ্চলের আবহাওয়ার চিত্র দিন দিন বদলে যাচ্ছে। বর্ষাকাল চললেও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কয়েকদিন আগে বৃষ্টিপাত হলেও সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। আবারও মৃদু তাপপ্রবাহে পুড়ছে রংপুর বিভাগ। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৩৭ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এসব জেলায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে রংপুর বিভাগজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় গরমের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্নের মুখে পড়ছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে দুপুরের দিকে রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচলও ছিল তুলনামূলক কম। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে।

