সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত কয়েক মাস ধরে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। এতে সরকারের দেওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের হাজারো সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার মতো সাধারণ রোগের ওষুধও মিলছে না এসব কেন্দ্রে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম থেকে আসা দুস্থ ও অসহায় মানুষ ওষুধের জন্য ভিড় করছেন। কিন্তু দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তাঁদের জানাচ্ছেন, ‘ওষুধ নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আগে এখান থেকে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, জিংক ট্যাবলেট, স্যালাইন ও অ্যান্টাসিড পাওয়া যেত। এখন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি আয়রন বড়িও মিলছে না।
খলিশখালী ইউনিয়নের জয়ন্ত ও আজিজুর রহমান বলেন, গ্রামের গরিব মানুষ ছোটখাটো অসুখে এসব ক্লিনিকের ওপরই ভরসা করে। কিন্তু দুই-তিন মাস ধরে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।
মাগুরা ইউনিয়নের শিখা শেখ জানান, অসহায় মানুষের জন্য এই সেবা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বছরের ৩ অক্টোবর ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। চাহিদার তুলনায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দুই-একটি আইটেম ছাড়া আর কিছুই মজুত নেই।
তালা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, আমি দুই মাস হলো ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। এ সময়ের মধ্যে ক্লিনিক বা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। গত মাসের জেলা সমন্বয় সভায় ওষুধ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়োগ পেলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনেয়ারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওষুধ সংকটের বিষয়টি আমি জানতাম না। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এসব সেবাকেন্দ্র সচল রাখা জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন