শেরপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জিয়াউল হক নামে এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বড় ভাই হেলাল উদ্দিন ও ভাতিজা সাজুর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলা চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ওই গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় জিয়াউল হকের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন: চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের কুলুর চর গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪৫), হেলাল উদ্দিনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (৩১), মো. আব্দুর রশিদের ছেলে ইমরান আলী (৩৮), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুর রশিদ, হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী ছরুফা বেগম (৪০) এবং ধানুপাড়া গ্রামের মান্নান মিয়ার স্ত্রী সনেখা বেগম (৪৫)।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল হককে তারই বড় ভাই আলাল উদ্দিন, ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন সাজু ও ইমরান আলী পূর্বপরিকল্পিত ভোগকৃত জমি জবর দখল করার জন্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমি দখল করার চেষ্টা চালায়।
এ সময় জিয়াউল হক খবর পেয়ে তা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাজু ও ইমরান প্রথমে তার মেয়ে ঝিনিয়া আক্তারকে ও স্ত্রী জোসনা বেগমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। বাধা দিতে গেলে জিয়াউল হককে মেরে ফেলার হুমকি দেন বড় ভাই আলাল উদ্দিন ছেলে সাজু। পরে সাজু রামদা দিয়ে জিয়াউল হকের মাথায় কোপ দিলে রক্তাক্ত অবস্থায় জমিতে ফেলে রেখে চলে যান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী মিতালী বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই কিছু বুঝে উঠার আগেই সাজু রাম দা দিয়ে জিয়াউল হকের মাথায় কোপ মাইরা বইছে। পরে আমরা মাথা কাপড় দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
জিয়াউল হকের স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের নামে জমি তারা জোরপূর্বক দখল নেওয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা বাধা দিতে গেলে মেয়ে ঝিনিয়া এবং আমার সারা শরীর পিটিয়ে জখম করে দেয়। আমার স্বামীকে মেরে ফেলার জন্য রামদা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর জন্য একটা মিথ্যে কাহিনী সাজাচ্ছে। তাকে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি। শুধু ভাইয়ে ভাইয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বানোয়াট।


