ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরাও তরুণদের উত্থান চায় না : হাসনাত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরাও তরুণদের উত্থান চায় না। এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণদের। তিনি বলেন, ‘যারা আজ আমাদের মা-বোনদের হিজাব ও বোরখা খুলে ফেলতে চায় তারা ক্ষমতায় এলে শুধু নারীদের নয়, পুরো বাংলাদেশকেই বিবস্ত্র করে ফেলবে। একটি রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশের নারীসমাজের সম্মান, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে।’

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের ‘ইনসাফের যাত্রা’ নামের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে একটি দল প্রকাশ্যেই আমাদের মা-বোনদের হিজাব, বোরখা ও শালীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় এলে দেশের মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, দেশ আবারও ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হবে।’

ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘যারা তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবার সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে আসে, আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তাদের প্রতিহত করব। জনগণের ভোটাধিকার এবার নিশ্চিত করা হবে।’

এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান চেয়েছিলাম। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু আজও তা হয়নি। যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে এবং নিজেদের পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রেখেছে, তারা আবারও ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্র করছে। এই নির্বাচনেই তাদের ব্যালটের মাধ্যমে জনগণকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ তরুণদের ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, চায় না মিডিয়া মাফিয়ারা, চায় না টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজরা।’

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেই অনাস্থা দূর করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন—জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক আমাদের কাছে এসে তাদের অসহায়ত্বের কথা বলেন। দালাল মালিকানাধীন মিডিয়া সত্য সংবাদ প্রচার করতে দেয় না। ৫ আগস্টের পর আমরা যখন মন্দির-মসজিদ পাহারা দিয়েছি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, তখন একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। দালালি পরিহার করে জনগণের পক্ষে সত্য সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানাই।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে—চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দেশ চালাবে, নাকি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করবে। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির ২০০ জন নির্মমভাবে খুন হয়েছে। নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকও নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ, সীমানা ও মা-বোনরা কতটুকু নিরাপদ থাকবে?’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি প্রার্থী এসএম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ‘টেন্ডারবাজ, বালুখেকো ও দুর্নীতিবাজদের শাহজাদপুরের জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে ইনশাআল্লাহ।’

এ দিন জনসভায় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।