ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে পপকর্ন বিক্রেতা খুন, গ্রেপ্তার ৪

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৮:২১ এএম
গ্রেপ্তার ৪ জন। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে চলন্ত ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পপকর্ন ফেরিওয়ালা আল আমিনকে (৩০) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের ফজলে হকের ছেলে মো. আকাশ (৩০), হরিহরপুর সুগার মিল এলাকার পাগলা মিয়ার ছেলে কুদরত আলী (৩২), রুহিয়া উপজেলার ঘনিবিষ্টপুর গ্রামের বন্দরপাড়া এলাকার মো. সুজন (২২) এবং একই উপজেলার হরিহরপুর হাজীপাড়ার সামসুল হকের ছেলে আবু সাঈদ (২৩)।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ২৩ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলারহাট এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে পপকর্ন বিক্রি করতে গেলে আল আমিনের সঙ্গে নারিকেল বিক্রেতা আকাশের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

এদিকে ২৪ নভেম্বর রাতে আল আমিন তাঁর সহকর্মী মো. মাহাবুব, জানিফ উদ্দিন ও মাহামুদুলকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর থেকে পীরগঞ্জগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম করার পর আগের দ্বন্দ্বের জেরে চারজন তাঁকে টেনে নিয়ে যান ‘ঠ’ বগিতে।

রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পীরগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে আসামিরা ধারালো চাকু দিয়ে আল আমিনের গলায় আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে সঙ্গে থাকা আরেক ফেরিওয়ালা মিলন মিয়া (১৭) আহত হন।

পরে অন্যান্য ফেরিওয়ালারা দুজনকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত মিলনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এ ঘটনায় ২৫ নভেম্বর নিহতের শ্বশুর আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরই রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদের নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে নামে।

তিনি জানান, রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু টোল প্লাজা থেকে মো. আকাশ ও কুদরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা একটি নৈশকোচে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট এলাকা থেকে মো. সুজন ও আবু সাঈদকে আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই আমরা অভিযান শুরু করি। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চারজনকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।