ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চাহিদা বাড়ছে নড়াইলের চ্যাপা শুঁটকির

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া এবং সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের শোলপুর গ্রামে শীত মৌসুমের শুরুতেই প্রস্তুত হচ্ছে দেশীয় পুঁটি মাছের শুঁটকি। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে এই পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে।

সরেজমিন শলুয়ার বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলের মাঝে খোলা জায়গায় বাঁশ-খুটির মাচা তৈরি করে তার ওপর শুঁটকি তৈরির কাজ চলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন দেশি মাছ সংগ্রহ করে শুকানোর কাজ হয়। ভালোভাবে শুকানোর পর মাছগুলো সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকা থেকে মাছ শুকানোর কাজ করতে আসা মো. কবির শেখ ও কামরুল শেখ বলেন, ‘এখানে কৈ, চাঁদাসহ পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় পুঁটি মাছের শুঁটকি, যা চ্যাপা শুঁটকি নামে পরিচিত। মাছ শুকানোর কাজে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না; শুধু লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়েই শুঁটকি তৈরি করা হয়।’

মৎস্যজীবী মো. মোসা মিয়া বলেন, ‘শীত মৌসুমে খাল ও বিলের পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে দেশীয় প্রজাতির মাছ বেশি ধরা পড়ে। সেই মাছ কম দামে কিনে আমরা শুঁটকি তৈরি করি। কিন্তু দালাল ছাড়া বর্তমানে এ শুঁটকি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দালাল বাদ দিয়ে যদি সরাসরি পার্টির কাছে বিক্রি করতে পারতাম, তাহলে ব্যবসায় ভালো লাভ হতো।’

অলোক বিশ্বাস নামে আরেক মৎস্যজীবী বলেন, ‘দুই-তিন মন কাঁচা মাছ শুকালে এক মন শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রকারভেদে এক মন শুঁটকি সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নড়াইলে এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখানকার শুঁটকি রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় জেলাসহ দেশের অন্যান্য জেলায়ও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নড়াইল জেলা মৎস্য অফিস এসব ব্যবসায়ীকে মানসম্মত শুঁটকি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে আসছে।’