রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৪ টার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর আলাউদ্দিন মানিককে যাত্রাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়েছে। একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র দাবি করেছে, সম্প্রতি তৈরি করা চাঁদাবাজদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন আলাউদ্দিন মানিক। তার বিরুদ্ধে পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার ভাই বিল্লাল ওরফে ‘হাইড্রোলিক বিল্লাল’, সুমন ও রোমানকে নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সায়েদাবাদ এলাকায় ‘শফি মটরস’ নামে গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসার আড়ালে তারা আধিপত্য বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তাদের দোকান থেকে মালামাল কিনতে চাপ দেওয়া হতো। অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি, হামলা ও মারধরের শিকার হতে হতো।
ভুক্তভোগীদের করা একাধিক জিডিতে একই ধরনের অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক বিরোধ তৈরি হলেই সংঘবদ্ধভাবে হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটত।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি জিডিতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়। সেখানে আলাউদ্দিন মানিক, বিল্লাল, রোমান ও সুমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আরেকটি ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর এবং তার শরীরে গরম চা নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মানিকের নির্দেশনার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও প্রভাবের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।


