রাজধানীর খুচরা বাজারে তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আলু, বেগুন, কাঁচা মরিচ এবং কয়েক ধরনের চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ অনুভব করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল আহমেদ জানান, খামার ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে প্রচণ্ড গরমে অনেক খামারি নতুন করে ব্রয়লার মুরগি তুলতে পারেননি। আবার লোকসান এড়াতে অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
গত এক মাসে আলুর দামও বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বাজারে দেশি রসুনের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারেও কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সরু চালের মধ্যে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা বেড়েছে। মাঝারি ও মোটা চালের দামও কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে এ চালের দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দামও বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দুই পণ্যের দামই কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেশি।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, চলতি সপ্তাহে কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে মরিচ ও বেগুনসহ কিছু সবজির সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।

