সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো দুই ধাপে নয়, বরং ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে একবারে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। মূলত, অনলাইনে বেতন নির্ধারণী বা আইবাস সিস্টেমে সমন্বয় করার জটিলতা এড়াতেই এই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে একবারে বাস্তবায়ন করা হলেও পে কমিশনের মূল সুপারিশের চেয়ে বেতনের হার কিছুটা কমানো হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছিল সরকার। দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলে আইবাস সিস্টেমে জটিলতা তৈরি হবে। এ ছাড়া দুই ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গেলে টাকা খরচ হবে বেশি। চাকরিজীবীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।
জানা যায়, বর্তমানে অষ্টম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে ‘আইবাস’ সিস্টেমে তা সমন্বয় করা বেশ জটিল হয়ে পড়বে। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও তাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা যাবে না। এ জন্য প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছরে ভাতা সুবিধা বাস্তবায়ন করা উচিত।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাঁচ বছর পর বেতন বাড়ানো হয়। তবে ১১ বছর পরও সেই বেতন বাড়ানো হয়নি। এ জন্য সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেতন বাড়ার হার নির্ধারণ করতে হবে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক।
কমিটির মূল দায়িত্ব হলো- জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। কমিটি যথাসময়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পে স্কেল চূড়ান্ত করবেন।
কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে হবে চলমান পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ভার বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত একটি কাঠামো চূড়ান্ত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

