জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ভোট পদ্ধতি নিয়ে যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হালনাগাদে উঠে এসেছে, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোট প্রদান সম্পন্ন করেননি। এতে করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট গ্রহণ, ভোট প্রদান এবং ডাকবাক্সে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছানো ব্যালটের সংখ্যাও আশানুরূপ নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের পোস্টাল ব্যালটে ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব। অনেক শিক্ষকই পোস্টাল ব্যালট কীভাবে গ্রহণ ও জমা দিতে হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও সময়সীমা ও ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ব্যালট পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু কখন কোথায় জমা দিতে হবে, কত দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। ভুল হলে ভোট বাতিল হয়ে যাবে কি না, সেটাও চিন্তার বিষয়।’
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা, ফলাফল প্রণয়ন এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণসহ নানা দায়িত্বে ব্যস্ত। ফলে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আলাদা সময় বের করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ভোট দেওয়াই তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিশ্চিত পদ্ধতি।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার প্রবাসীদের গন্তব্যস্থ দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার সফলভাবে ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন এবং ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন। প্রাপ্ত ব্যালটের মধ্যে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ৪১ হাজার ১৭৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে ডাকযোগে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য মোট ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোট প্রদান করেছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন এবং ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৯১৫টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
ডাকযোগে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরের ভোটারের পার্থক্য তুলে ধরছে যে, প্রযুক্তিভিত্তিক ভোট প্রদান প্রক্রিয়া প্রবাসীদের মধ্যে বেশি গ্রহণযোগ্য। কমিউনিকেশন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা সহজে ভোট প্রদান করতে পারায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণের হার দ্বিগুণ।
নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে দেশের নির্বাচনের জন্য নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রবাসীদের অংশগ্রহণ দেশবাসীর কাছে নির্বাচনের প্রতি আস্থা ও স্বচ্ছতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরের ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য কমিশন বিভিন্ন প্রচার ও তথ্য সরবরাহ করছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন