প্রকৃতিই আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান।
‘জলবায়ু পরিবর্তন- আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এ মন্তব্য করেন প্রখ্যাত মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান।
পরিবেশ সংরক্ষণকে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি কেবল আমাদের আশ্রয় নয়, আমাদের মহান শিক্ষকও বটে। পৃথিবীর প্রতিটি বৃক্ষ, নদী, মাটি, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতির এই ভারসাম্য নষ্ট হলে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়বে।’
উপাচার্য তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে বৃক্ষরোপণ, কৃষিবনায়ন, জৈব সার ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজকের শিশুদের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাচ্ছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একটি বৃক্ষ রোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানির অপচয় রোধ কিংবা প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ— এসব ছোট ছোট উদ্যোগই একটি বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।’
তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, জল ও মাটি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তিনি শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থানই হতে হবে আমাদের উন্নয়নের দর্শন। আসুন, প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে জলবায়ু সুরক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।

